Saturday, September 24, 2016

দুনিয়া কাঁপানো ১০টি প্রেমিক জুটির অমর প্রেম কাহিনী

১। রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট

নিঃসন্দেহে রোমিও এবং জুলিয়েটের প্রেমের আখ্যান দুনিয়ার অন্যতম বিখ্যাত প্রেম কাহিনী। যেন ভালোবাসার অপর নাম রমিও-জুলিয়েট।  বিশ্ব বিখ্যাত ইংরেজ লেখক উইলিয়াম শেক্সপিয়র  এর কালজয়ী ট্রাজেডি হলো রোমিও-জুলিয়েট। সারা বিশ্বে যুগ যুগ ধরে পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে এ বিয়োগান্ত প্রেম কাহিনী।
রোমিও আর জুলিয়েটের পরিবারের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক ছিল। দুটি ভিন্ন পরিবারের পূর্ববর্তী রেষারেষি, বংশীয় অহংকার ভেদ করে দুজন তরুণ-তরুণী প্রথম দর্শনে প্রেমে পড়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবারের শত বাঁধা উপেক্ষা করে নানা নাটকীয়তার মাঝে তারা বিয়ে করে। সবশেষে,  দুই পরিবারের শত্রুতার জেরে  এবং ভুলবোঝা-বুঝি জনিত কারণে বিষপানে আত্মহত্যা করে এই প্রেমিক যুগল। তাই পৃথিবীতে যখনই প্রেমের জন্য ত্যাগ- তিতিক্ষার কথা বলা হয়, সবার আগেই উঠে আসে এই তরুণ যুগলের নাম! তরুণ এ যুগলের ভালবাসার জন্য মৃত্যুবরণ আজো পৃথিবীর মানুষকে একই আবেগে নাড়া দেয়।

২। প্যারিস এবং হেলেন

গ্রীক পুরাণের ফ্যাক্ট এবং ফিকশনের অপূর্ব এক সংমিশ্রণ হল, গ্রীকলেখক কালজয়ী হোমারের জগতবিখ্যাত এপিক “ইলিয়াড।” নাম করা সেই যুদ্ধের নাম হল, “Trojan War!” যে যুদ্ধে ধ্বংস হয়েছিল পুরো একটা শহর- ট্রয়! ইতিহাসে যা “Helen of troy” নামে বিখ্যাত। দেবরাজ জিউস এবং স্পার্টার রাজা টিন্ডারিউসের পত্নী লীডার মিলনের ফলে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হেলেনের জন্ম হয়। বিশ্বসাহিত্যে হেলেন সেরা সুন্দরীর আসনে অধিষ্ঠিত। স্পার্টার রাজা মেনিলাসের সঙ্গে হেলেনের বিয়ে হয়। ট্রয়ের ছোট রাজকুমার প্যারিস হেলেনের প্রেমে পাগল হয়ে অপহরণ করে তাঁর রাজ্যে নিয়ে এসেছিলেন। হেলেনকে উদ্ধারে মেনিলাসের ভাই অ্যাগামেমননের নেতৃত্বে বিরাট গ্রিক সেনাদল ট্রয়ের অভিমুখে যাত্রা করে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চলে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধ। যুদ্ধের এক পর্যায়ে গ্রিক সৈন্যরা ট্রয় রাজ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে ট্রয়নগর। আগুনে পুড়ে হাজার হাজার সৈন্য আর নিরীহ নাগরিক মারা যায়। গ্রীক বীর একিলিসও হেলেনের অন্যতম পাণিপ্রার্থী ছিলেন। তাই একিলিস ছুটে যায় হেলেনকে বাঁচানোর আশায়; কিন্তু প্যারিস তীর বিদ্ধ করে মেরে ফেলে একিলিসকে। পালিয়ে যায় হেলেন, জয়লাভ করে গ্রিকরা। কিন্তু যে হেলেনের জন্য এত কিছু তাকে মেনেলাউস কাছে পেয়েছিল কিনা তা আজও অজানা।  প্রেমের জন্য এত রক্তপাত আর ধ্বংস পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই।

৩। লাইলি ও মজনু

মধ্যযুগের ইরানি কবি নিজামী তার কাব্য লায়লি-মজনুর জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। আরব মিথ ‘লায়লা-মজনু’ অবলম্বনে তিনি তার কাব্য রচনা করেন। অধরা প্রেমের এক বিয়োগন্ত গাথা এ কাব্য। কাব্য লিখিত হওয়ার আগে শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে এই মিথ আরবে প্রচলিত ছিল। প্রেমের ইতিহাসে, বিশেষ করে এই উপমহাদেশীয় মুসলিম সমাজে কালজয়ী হয়ে উঠে দুটি চরিত্র, লায়লী ও মজনু। স্বর্গীয় প্রেমের প্রতীক মানা হয় এই জুটিকে। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অর্থাৎ বাল্যকাল থেকেই লায়লা এবং কায়েস একে অপরের প্রেমে পড়েন। তাদের প্রেম সমাজের নজরে এলে দুজনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়। বলা আছে, লায়লার পিতা মজনুকে আহত করলে লায়লারও আহত হতো, এমননি ছিল তাঁদের সেই স্বর্গীয় প্রেম। নিঃসঙ্গ কায়েস মরুপ্রান্তরে নির্বাসনে যান। বিরহকাতর কায়েসের ক্ষ্যাপাটে আচরণের জন্য তাকে ডাকা হতো মজনুন (পাগল) নামে। পরে বেদুঈনের দল মজনুর হার না মানা ভালোবাসা দেখে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে এক বৃদ্ধ বেদুইন লড়াই করে লায়লাকে পাওয়ার জন্য কায়েসকে প্রেরণা দেন। তাদের সহযোগিতায় যুদ্ধে লায়লার গোত্র ক্ষমতাচ্যুত হয়, তারপরও লায়লার বাবা কায়েসের সঙ্গে লায়লার বিয়েতে সম্মতি দেন না। লায়লাকে তাঁর পিতা জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। স্বামী মারা যাবার পর, যদিও লায়লা মজনুর কাছে ফিরে আসে, কিন্তু প্রচণ্ড দুঃখ আর অনাহারে মজনু মারা যায়। লায়লাও তাঁর ভালোবাসা মজনুর পথ অনুসরণ করে। মৃত্যুর পর তাদের পাশাপাশি সমাধিস্থ করা হয়।  “দুই দেহ এক আত্মা,” নামক বহুল প্রচলিত কথা এই যুগলের অনুপ্রেরণায় পাওয়া।  স্বর্গে গিয়েও ভালবাসার মানুষকে চাওয়ার তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের আকুতি এই কাহিনীকে অমর করে রেখেছে।

৪। সেলিম ও আনারকলি

মুঘল সম্রাট আকবরের পুত্র সেলিম প্রেমে পড়েন রাজ্যের নর্তকী অনিন্দ্য সুন্দরী আনারকলির। আনারকলির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রথম দর্শনেই তার প্রেমে পড়েন সম্রাটপুত্র সেলিম। সম্রাট আকবর এই সম্পর্ক কখনোই মেনে নেন নি। সম্রাট আনারকলিকে সেলিমের চোখে খারাপ প্রমাণ করতে নানা ধরনের চক্রান্ত করেন। পিতার এ কৌশলের কথা জানামাত্র সেলিম নিজ পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু শক্তিশালী আকবর বাহিনীর কাছে সেলিম খুব সহজেই পরাজিত নিজ সন্তানের মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করেন আকবর। তখন প্রিয়তম সেলিমের জীবন বাঁচাতে আনারকলি নিজের জীবনের বিনিময়ে সেলিমের জীবন ভিক্ষা চান। তখন সম্রাট সেলিমের চোখের সামনে প্রিয়তমা আনারকলিকে জ্যান্ত কবর দেয়া হয়!!

৫। শাহজাহান ও মমতাজ

১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে আরজুমান বানু নামক এক বালিকার সঙ্গে ১৫ বছরের শাহজাহা্নের বিয়ে হয়। পরে কিনা যিনি  মোঘল সম্রাজ্য পরিচালনা করেন। সম্রাট শাহজাহান তাঁর ১৪ সন্তানের জননী এবং প্রিয়তম স্ত্রীর নাম পরিবর্তন করে রাখেন মমতাজ মহল। ১৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে মমতাজের মৃত্যুর পর,  স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি স্থাপত্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। যাতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করেছিল, প্রায় ১ হাজার হাতী ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেই স্থাপতের নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছিল। তাজমহলের নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই শাহ জাহান তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেব দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত ও আগ্রার কেল্লায় গৃহবন্দী হন। শেষ বয়সে সাম্রাজ্য হারিয়ে বন্ধী জীবন কাটিয়ে ছিলেন। তাই সেই অনিন্দ্য সুন্দর কালো মার্বেল পাথরের সৌন্দর্য তিনি সম্পূর্ণ দেখে যেতে পারেননি। যমুনাতীরে যেখানে “তাজমল” গড়ে ওঠেছিল, শেষ জীবনে শাহজাহান ওখানে একাকী সময় পার করেছেন। মৃত্যুর পর তাঁকে সেখানে সমাহিত করা হয়। তাঁর ভালোবাসার নিদর্শনে তিনি রেখে যান, পৃথিবীর সপ্তাচার্যের মাঝে একটি “তাজমহল!”

৬। মার্ক এন্টোনি অ্যান্ড ক্লিওপার্টা

ক্লিওপেট্রা এবং মার্ক অ্যান্টনির সত্য প্রেমের  কাহিনী পৃথিবীজুড়েই আলোচিত। এ দুই বিখ্যাত ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে নাটক লিখেছেন শেক্সপিয়র। নাটকটি এখনো পৃথিবীর সবখানেই সমাদৃত। অনিন্দ সুন্দরী মিসরীয় রাণী ক্লিওপেট্রা আর তাঁর প্রধান সেনাপতি এন্টোনি প্রথম দর্শনেই পরস্পরের প্রেমে পড়ে যান। এই দুই ক্ষমতাধর মানুষের প্রেমের বন্ধনে মিসর পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। কিন্তু রোমান শাসকদের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়ায় এই প্রেম। কারণ এ প্রেমই মিসরকে শক্তিশালী করে তুলছিল। রাজকীয় ঘাত-প্রতিঘাত, জয়-পরাজয় উপেক্ষা করে তাঁরা বিয়ে করেন। ধারণা করা হয়, রোমানদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় এন্টোনির মনোবল ভাঙার জন্য, তাঁকে যুদ্ধের ময়দানে মিথ্যে সংবাদ শুনিয়েছিলেন যে, শত্রুরা ক্লিওপেট্রাকে হত্যা করেছে। ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর বেদনা সইতে না পেরে অ্যান্টনি নিজ তলোয়ার দিয়ে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে এন্টোনির মৃত্যুসংবাদ শুনে রাণী ক্লিওপেট্রাও নিজ ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন। Shakespeare তাঁদের জন্য বলেছিলেন, “great love demands great sacrifices!”.

৭। ল্যান্সলট অ্যান্ড গুনিভেয়ার

আরেকটি রাজকীয় এবং সেই সঙ্গে ট্র্যাজিক লাভ স্টোরিগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, এই আর্থারিয়ান প্রেম কাহিনী স্যার ল্যাঞ্ছলট অ্যান্ড লেডী গুনিভেয়ার। ইংলিশ কিং আর্থারের স্ত্রী, রাণী গুনিভেয়ার প্রেমে পড়েছিলেন সেই রাজ্যের বীর একজন নাইট, স্যার ল্যাঞ্ছলট। প্রথমদিকে গুনিভেয়ার ল্যান্সলটকে এড়িয়ে  চলেছিলেন, কিন্তু রাজা আর্থারের অবহেলা আর অবজ্ঞার কারণে, একসময় রাণী গুনিভেয়ারও তাঁর প্রেমে পড়ে যায়। এক রাতে, রাজা আর্থারের ভাতিজা স্যার আগ্রাভিয়ান এবং স্যার মোড্রেড ১২ জন নাইটকে রানী গুনিভেয়ারের সভাকক্ষে প্রেরণ করে। তারা এই যুগল-বন্দিকে আক্রমণ করেন। এ সময় ল্যান্সলট ত্বরিত পলায়নে সক্ষম হন কিন্তু গুনিভেয়ারের ভাগ্য এতটা সুপ্রসন্ন ছিল না। পরকীয়ার অপরাধে রাণী গুনিভেয়ারকে আগুনে পুড়িয়ে মারার শাস্তি ঘোষণা করা হয়। স্যার ল্যাঞ্ছলট তাঁর প্রেমিকা লেডী গুনিভেয়ারকে যুদ্ধ করে বাঁচিয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়, কিন্তু তাঁদের এই প্রেমের জন্য পুরো রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং অনেক মৃত্যুর জন্য তাঁরা নিজেদের দায়ী করে, নিজেদের মধ্যে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়। ল্যান্সলট তার জীবনের শেষ দিনগুলো নিভৃতে নিঃসঙ্গভাবে কাটিয়েছিলেন। অন্যদিকে, গুনিভেয়ার অ্যামসবারিতে একজন যাজিকা হিসাবে নিজের জীবন শুরু করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

৮। ত্রিস্তান এন্ড ইসলদে
ত্রিস্তান আর ইসলদের ট্র্যাজিক প্রেমগাথা যুগ যুগ ধরে নানা কাহিনী আর পান্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এটি মধ্যযুগে রাজা আর্থারের রাজত্বকালের ঘটনা। ইসলদে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের রাজকন্যা। ছিলেন কর্নওয়েলের রাজা মার্কের বাগদত্তা। তিনি রাজকুমারী অ্যাইসোলেইডকে নিজ রাজ্য কর্নওয়েলে ফিরিয়ে আনার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁর ভাইয়ের ছেলে ত্রিস্তানকে। কিন্তু সেই ভ্রমণে ত্রিস্তান এবং ইসলদে একে অপরের প্রেমে পড়ে যান। যদিও শেষ পর্যন্ত অ্যাইসোলেইড রাজা মার্ককেই বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিন্তু ভালবাসা অব্যাহত থাকে ত্রিস্তানের সঙ্গে। কিন্তু তাঁদের প্রেমের কথা রাজ্যে গোপন থাকে না। এক সময় এই প্রেম রাজা মার্কের নজরে আসে। তিনি তাঁদের দুজনকেই মাফ করে দেন, কিন্তু ত্রিস্তানকে কর্নওয়েলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ত্রিস্তান চলে যান ব্রিটানিতে। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় আইসিলতের সঙ্গে। ইসলদের  সঙ্গে এই তরুণীর নামের সাদৃশ্য ত্রিস্তানকে আইসিলতের প্রতি আকৃষ্ট করে। পরে ত্রিস্তান, আইসিলতের সাথে নামের মিল থাকার কারণে  আইসিলত নামক ওই রমণীকে বিয়ে করেন। কিন্তু এই বিয়ে কখনোই পূর্ণতা পায়নি, কারণ ত্রিস্তানের হৃদয় ছিল ইসলদের প্রেমে আচ্ছন্ন। এক পর্যায়ে ত্রিস্তান ইসলদের বিরহে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পাঠান ইসলদের কাছে, যেন একবার ত্রিস্তানকে দেখে যান এবং একটি জাহাজ পাঠিয়ে দেন। তাঁর স্ত্রী আইসিলতকে বলেছিলেন, ইসলদে যদি আসে তাহলে জাহাজের পালের রং হবে সাদা আর না আসতে চাইলে পালের রং হবে কালো।তার স্ত্রী জাহাজে সাদা পতাকা দেখতে পেয়েও তাকে জানান যে, জাহাজের পালের রং কালো। তখন ত্রিস্তান ভাললেন ইসলদে আর আসবে না। ত্রিস্তান ভাবলেন ইসলদের আর আসবেন না। তার ইসলদে তার কাছে পৌঁছানোর আগেই ত্রিস্তান মারা যান। তাঁর শোকে ভগ্ন হৃদয় নিয়ে ইসলদেও কিছুদিন পর তাঁরই রাজ্যে মারা যান।

৯। অরফিয়াস এবং ইউরিডাইস


এটি প্রাচীন গ্রিসের এক অন্ধ প্রেমের কাহিনী। অরফিয়াস সাগর, বন, পর্বতের অধিষ্ঠানকারিনী উপদেবী ইউরিডাইসের প্রেমে পড়েন। এক পর্যায়ে বিয়ে হয় দুজনের। আনন্দেই কাটছিল দুজনের জীবন। ভূমি এবং কৃষির দেবতা পরিস্টিয়াসের নজর পড়ে ইউরিডাইসের ওপর। কিন্তু ইউরিডাইসের প্রেমে সাড়া না পেয়ে তার ক্ষতি করতে উদ্যত হন। পরিস্টিয়াসের হাত থেকে বাঁচার জন্য পালাতে গিয়ে ইউরিডাইস এক সাপের গর্তের পড়লে সাপ তার পায়ে বিষাক্ত ছোবল হানে। শোকে কাতর অরফিয়াসের হৃদয় বিদীর্ণ করা হাহাকার শুনে পরী আর দেবতাদের চোখেও জল আসে। দেবতাদের পরামর্শে অরফিয়াস পাতালপুরীতে প্রবেশ করেন। পাতালপুরীতে তার গান শুনে হেডস-এর মন গলে যায়। মুগ্ধ হয়ে হেডস ইউরিডাইসকে অরফিয়াসদের সঙ্গে পৃথিবীতে পাঠাতে রাজি হন। কিন্তু সেজস্য একটা বিশেষ শর্ত দেন। শর্তটি হলো অরফিয়াসকে ইউরিডাইসের সামনে থেকে হেঁটে যেতে হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পৃথিবীতে না পৌঁছবে ততক্ষণ অরফিয়াস পেছনে ফিরতে পারবে না। কিন্তু উৎকণ্ঠিত অরফিয়াস হেডসের সেই শর্তের কথা ভুলে গিয়ে হঠাৎ করে ইউরিডাইসকে দেখতে পেছনে ফেরেন। আর তখনই অরফিয়াসের জীবন থেকে চিরদিনের মতো অদৃশ্য হয়ে যান প্রিয়তমা ইউরিডাইস। বলা হয়ে থাকে, এই যে প্রেম কিংবা বিরহে সঙ্গীত ও মিউজিক অনেক বড় ভুমিকা থাকে, সেটা নাকি অরফিয়াস আর ইরিডাইসের প্রেমকাহিনী থেকেই অনুপ্রাণিত হওয়া।

১০। নেপোলিয়ান এবং জোসেফাইন

২৬ বছর বয়সী মহাবীর নেপোলিয়ান তার চেয়ে বয়সে বড়, বিখ্যাত এবং বিত্তশালী জোসেফাইনের প্রেমে পড়েন। তাঁরা দুজনেই তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে শ্রদ্ধাবোধ, এবং ত্যাগ বজায় রেখেছিলেন এবং সমঝোতার মাধ্যমে তারা বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা পরস্পরের প্রতি গভীর ভালবাসায় নিমগ্ন হন। তাদের স্বভাব, আচার-আচরণে অনেক পার্থক্য ছিল, কিন্তু এগুলো তাদের প্রেমবন্ধনকে আরো দৃঢ় করেছে, ফলে তাদের ভালবাসা কখনো ম্লান হয়ে যায়নি। কিন্তু পরিশেষে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে কারণ, নেপোলিয়ন খুব চাইতেন জোসেপাইনের গর্ভে যেন তাঁর সন্তান হয়, কিন্তু মাতৃত্ব ধারণে অক্ষম ছিলেন জোসেপাইন। তাই জোসেফাইন নেপোলিয়ানের উত্তরাধিকার অর্জনের উচ্চাকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ হন। তাই পরস্পরের প্রতি গভীর আসক্তি এবং ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও তারা একত্রে জীবনযাপন করতে পারেননি।
 
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
Share:

শিশুটি কার? বাবা মা’কে খুজে পেতে শেয়ার করুন

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নিউজ ডেস্ক: মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সী ফুটফুটে চেহারার খালি গায়ের এক শিশু। নাম বলছে নাজনীন। তবে বলতে পারছে না বাসার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর সিটি কলেজের সামনের তালতলার মোড়ে এক নারী তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ সময় শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে যাওয়ায় কাঁদতে থাকে সে। পরে স্থানীয় এক সেলুন মালিক অসীম কুমার শীল শিশুটিকে উদ্ধার করে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম টিটোর জিম্মায় দেন। টিটো খুলনা সদর থানায় খবর দিয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরের কাছে হস্তান্তর করেন শিশুটিকে।

অসীম বাংলানিউজকে বলেন, এক নারী শিশুটিকে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে কান্নারত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে কোনো কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও সে কাঁদতে থাকে।

ফয়েজুল ইসলাম টিটো বাংলানিউজকে বলেন, অনেক আদর করে তার কাছ থেকে জানা যায় তার নাম নাজনীন। বাবার নাম আলাউদ্দিন, মায়ের নাম মনি। তবে বাসা বা বাড়ির কোনো ঠিকানা সে বলতে পারছে না।

কাঁদতে কাঁদতে শিশুটি বলতে থাকে, ‘নানুর দেওয়া কানের দুল নিয়ে গেছে। মা ঘুম থেকে উঠেছে। বাবা ঘুমে। আমাকে তাদের কাছে নিয়ে যান’।

শিশুটির স্বজনরা যোগাযোগ করতে পারবেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ০১৭১৩৩৭৩২৮৫ নম্বরে।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
Share:

Friday, September 23, 2016

ডায়াবেটিস কি? কেন হয়?

আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের শক্তির জন্য প্রয়োজন গ্লুকোজ। খাবার খাওয়ার পর জটিল বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া গ্লুকোজ রক্তের মাধ্যমে শরীরের কোষ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এ গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করার পর শক্তির উৎস হিসাবে কাজ করবে। তবে গ্লুকোজ কোষের ভিতরে প্রবেশের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় চাবি হলো ইনসুলিন নামক প্রোটিন হরমোন। এটা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হবার পর রক্তবাহিত হয়ে কোষের আবরণী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছে তা জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলস্বরূপ কোষের রুদ্ধ দুয়ার খুলে দেয়। আর তারপরই গ্লুকোজ পৌঁছে যায় কোষের ভেতরে, শক্তি জুগিয়ে উজ্জীবিত করে তোলে দেহকে।

কিন্তু কোন কারণে যদি অগ্ন্যাশয়ে গোলযোগ দেখা দেয় তবে ইনসুলিন আর ঠিকমতো নি:সৃত হতে পারে না। কিংবা কোষীয় আবরণের কাছাকাছি পৌঁছে ঠিকমত কাজ করতে পারেনা। ফলে কোষে গ্লুকোজের জোগান ব্যাহত হয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে, শক্তির অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে কোষ। মোদ্দাকথা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তখনই শরীরের ভেতর নানা জৈব-রাসায়নিকের বিপাকীয় কর্মকান্ডের হেরফের হয়।

অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিক মেলাইটাস (ইনসুলিন ডিপেনড্যান্ট ডায়াবেটিস মেলাইটাস) বা টাইপ ১ ডায়াবেটিস হয়। অন্যান্য দেশে টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা মোট ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যার ১০ থেকে ১২ শতাংশ। আমাদের দেশে এর হার ৩ – ৮ শতাংশের মত। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম ইনসুলিন নিঃসরণ হলে বা প্রতিবন্ধকতার কারণে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে না পারলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলাইটাস (ইনসুলিন ইনডিপেনড্যান্ট ডায়াবেটিস মেলাইটাস) হয়। আমাদের দেশে এটিই প্রধান ডায়াবেটিস।

সূত্র: ইন্টারনেট
Share:

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ৭টি লক্ষণ ও জটিলতাসমূহ

অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের নাম কমবেশি সবাই শুনেছি। বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকির কারণে অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সার্জিক্যাল ইমার্জেন্সি  (surgical emergency) হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা লাগতে পারে। এ কারনে একে অবহেলা করা উচিত নয়।
 
অ্যাপেন্ডিসাইটিস কি?
অ্যাপেন্ডিক্স হচ্ছে খাদ্যনালীর বৃহদন্ত্র অংশের সংযোগস্থলে অবস্থিত আঙ্গুলের মতো দেখতে একটি ছোট থলি। পীড়া, আঘাত বা সংক্রমণের কারণে অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ হলে তা ফুলে ওঠে এবং ব্যথা অনুভূত হয়। ডাক্তারি ভাষায় এটাকেই অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলা হয়।

কেন এবং কিভাবে হয়?কোন কারণে অ্যাপেন্ডিক্সে খাদ্য বা মল ঢুকে গেলে কিংবা কৃমি আটকে গেলে সেখানে রক্ত ও পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। এ অবস্থায় নানান জীবাণুর আক্রমণে অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ হয় এবং বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
 
উপসর্গ ও লক্ষণসমূহ:
১. পেটে ব্যথা। সাধারণত নাভীর কাছ থেকে শুরু হয়ে পেটের ডান দিকের নিম্নাংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে।
২. ক্ষুধামন্দা
৩. বমি বমি ভাব হওয়া
৪. বমি হওয়া
৫. কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
৬. জ্বর থাকতে পারে। তবে সাধারণত অতি উচ্চমাত্রায় নয়।
৭. অ্যাপেন্ডিক্স কোন কারণে ফেটে গেলে পেরিটোনাইটিসের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসে। তখন সারা পেট জুড়ে অনেক বেশি ব্যথা অনুভূত হয়। পেট ফুলে যায় এবং পেটে শক্ত ও চাপ চাপ ভাব অনুভূত হয়।
 
জটিলতা:
অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণগুলো দেখো দিলে খুব দ্রুত কোন সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তা না হলে পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরী হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস থেকে নিম্নোক্ত জটিলতাগুলো তৈরী হতে পারে-
১. গ্যাংগ্রিন বা পঁচন ধরা
২. অন্ত্র বা খাদ্যনালী ছিদ্র হয়ে যাওয়া
৩. পেরিটোনাইটিস
৪. শক (shock)
৫. অ্যাপেনডিকুলার লাম্প হওয়া

সূত্র: ইন্টারনেট
Share:

Thursday, September 22, 2016

দাফনের সময় নড়ে উঠলো নবজাতক


 প্রথম আলো২৪.কম নিউজ ডেস্ক : চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর নবজাতককে দাফনের সময় নড়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ওই নবজাতক জন্ম নেবার কিছু সময় পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দাফনের জন্য কবরস্থানে নেয়া হয়। দাফনের পূর্ব মুহুর্তে নড়ে উঠে শিশুটি। পরে দ্রুতই শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে ওই নবজাতককে শিশু হাসপাতালের ইনকিউবিটরে রাখা হয়েছে। এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। চিকিৎসকের 'অবহেলা এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন' কর্মকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন তারা।

ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন মিঠুর স্ত্রী অ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে বুধবার রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের বেসরকারি ডা. জাহেদ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রসূতির তেমন একটা খেয়াল না রাখায় রাত ১টার দিকে নরমাল ডেলিভারি হয়। নাজনীন আক্তার একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশু হাসপাতালের কর্তব্যরত গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলম নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করে। ওই রাতেই 'নবজাতকের' মরদেহ বুঝিয়ে দেয়া হয় পরিবারের স্বজনদের কাছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা নবজাতকটিকে দাফন করার উদ্দেশ্যে আলীপুর কবরস্থানে দাফন করার প্রস্তুতি নিলে দাফনের পূর্ব মুহুর্তে নড়ে-চড়ে উঠে শিশুটি। সাথে সাথেই ওই নবজাতককে আবার নেয়া হয় শিশু হাসপাতালে। তাকে হাসপাতালের ইনকিউবিটরে নিবীর পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় হতবাক শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা।

ওই নবজাতকের বাবা নাজমুল হোসেন মিঠু বলেন, মরদেহ দাফনের জন্য আলীপুর কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়। আলিপুর গোরস্থান মসজিদের ইমাম দাফনের সব আয়োজনও সম্পন্ন করেন। কিন্তু মরদেহের মাথা কোনদিকে আছে দেখতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে ওঠে দাফন করার কাজে নিয়োজিতদের।

আলীপুর কবরস্থানের কেয়ারটেকার বিল্লাল হোসেন বলেন, শিশুটির মরদেহের কাফনের কাপড় খুললে দেখা যায় সে জীবিত রয়েছে। এ সময় অন্যরাও শিশুটিকে জীবিত দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ ব্যাপরে ডা. রিজিয়া আলম বলেন, এ ব্যাপরে যা রিপোর্ট দেয়ার আমি অফিসে তাই দিয়েছি। এখন কোনো কথা বলবো না।

এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সদস্য শওকত আলী জাহিদ।

হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণার পর বেঁচে উঠার ঘটনায় শহরজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটির বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় আর যাতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই নবজাতকটির স্বজনরা।

সূত্র: ইন্টারনেট

Share:

জাতিসংঘ থেকে দুটি অ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা



প্রথম আলো২৪.কম নিউজ ডেস্ক
লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘের দুটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের ইউএন প্লাজায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেয়া হয়।

পুরস্কার গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই স্বীকৃতির জন্য আমি গর্ববোধ করছি। আমাকে এই সম্মান দেয়ার জন্য জাতিসংঘ উইমেন অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরামকে ধনব্যাদ জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, এই পুরস্কার প্রমাণ করছে বাংলাদেশের নারীরা সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তনের এজেন্ট। আমার এই পুরস্কার তাদের জন্য, যেসব নারী পুরুষের সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বে কাজ করে যাচ্ছে। আমি এই পুরস্কার বাংলাদেশের সেসব মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি, যারা আমার পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিশ্বাস রেখেছেন।

পুরস্কার গ্রহণের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মী পুরি ভাষণ দেন এবং সম্মাননাপত্র পড়ে শোনান। জাতিসংঘ উইমেনের নির্বাহী পরিচালক পামজিলে ম্লামবো-নাকুকা এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী আমির দোসাল সমাপনী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক, পররাষ্ট্র পতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।

সূত্র: ইন্টারনেট

Share:

আজ বিকেলে ফিরছেন খালেদা জিয়া, শোডাউনের প্রস্তুতি

হজ পালন শেষে  আজ বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনের একটি ফ্লাইটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

এর আগে সপরিবারে সৌদি আরবের জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন খালেদা জিয়া।

সেখান থেকে বড় ছেলে তারেক রহমান এমিরেটস এয়ারলাইনের একটি ফ্লাইটে পরিবারসহ লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন, আর খালেদা জিয়া ঢাকার উদ্দেশে।

বিএনপির প্রেস উইং কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

এদিকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা উপলক্ষে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ঢাকা মহানগর বিএনপি এরইমধ্যে তার সব ইউনিটকে প্রস্তুত করেছে দলের চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য।

এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনগুলো নিজেদের মতো করে শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খালেদা জিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই নেতা-কর্মীদের সেখানে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
Share:

মানসিক চাপ কমানোর কয়েকটি কৌশল

মানসিক চাপ তো থাকবেই। এটাই স্বাভাবিক। ধরুন, আপনি পাহাড়ে গেলেন, সেখানকার মনোরোম সুন্দর পরিবেশ দেখে মনে হলো এখানকার মানুষের কত শান্তি। তবে একটু ভাবলেই দেখবেন তাদেরও রয়েছে নানা কষ্ট বা ভোগান্তি। আমাদের দেশের পার্বত্য অঞ্চলে তো ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে পানি সংকট। কখনো কখনো খাদ্যাভাবও। যেখানেই যাবেন মানসিক চাপ থাকবেই। এর মধ্যেই টিকতে হয় আমাদের।

কাজের চাপ, সম্পর্কে টানাপড়েন, অর্থনৈতিক চাপ এসবে হয়তো মাঝে মাঝে দিশেহারা হয়ে পড়েন আপনি। তবে এর মধ্যেই লড়াই করতে হবে; জানতে হবে মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার কৌশল।

স্বাস্থ্য বিষয়কওয়েবসাইট টপটেন হোম রেমিডি জানিয়েছে মানসিক চাপ কমানোর কিছু কার্যকর পদ্ধতির কথা।

১. সুন্দর দৃশ্য কল্পনা

– শান্ত ও নিরিবিল পরিবেশে বসুন। চোখ বন্ধ করুন।
– ধীরে ধীরে কয়েকবার শ্বাস নিয়ে শরীর ও মনকে শান্ত করুন।
– এমন একটি জায়গা কল্পনা করুন যেখানে আপনি যেতে পছন্দ করবেন। সেটা হতে পারে পাহাড়, সমুদ্র বা ঘন অরণ্য।
– মন দিয়ে জায়গাটি অবলোকন করুন। এর ভেতরে প্রবেশ করুন।
– যতক্ষণ না পর্যন্ত শিথিল মনে হচ্ছে নিজেকে সেখানে থাকুন।
– এরপর ধীরে ধীরে আপনার মনকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসুন।
– চোখ খুলুন এবং বর্তমান পৃথিবীতে প্রবেশ করুন।

২. গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম
– সোজা হয়ে বসে চোখ বন্ধ করুন।
– পেটের মধ্যে হাত রাখুন।
– ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নিন।
– দমকে কিছুক্ষণ আটকে রাখুন। এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গুনুন।
– এরপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন।
– এইভাবে পাঁচ থেকে ১০ বার করুন।

৩. হাসুন
হাসা অনেক ভালো শিথিলায়ন পদ্ধতি। চমৎকার রসবোধ আপনার মনের চাপকে হালকা করবে। এটি মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোন করটিসল ও এড্রেনালাইনকে কমাবে।

৪. একটু হেঁটে আসুন
হাঁটা মানসিক চাপ কমায়। খুব বেশি চাপ লাগলে অন্তত ১০ মিনিট বাহির থেকে হেঁটে আসুন। হাঁটা হাত ও পাকে ব্যস্ত রাখে। এর মানে আপনি বর্তমান সময়ের মধ্যে বেশি ব্যস্ত রয়েছেন। মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমাতে এটি বেশ কার্যকর।

৫. শিথিলায়ন সঙ্গীত শুনুন
গান শোনা শরীর ও মনে মধ্যে বেশ বড় প্রভাব ফেলে। প্রশমিত করার ধীর গতির সঙ্গীত শুনতে পারেন। ইন্টারনেটেই মন শান্ত করার অনেক সঙ্গীত পেয়ে যাবেন।  অথবা নিজের মনেও গাইতে পারেন কোনো উদ্দীপক গান। এতে মানসিক চাপ কমবে।
Share:

AD

Popular Posts

আগামীকালের ইফতার সময়

AD

Blog Archive

Definition List

Support

আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে

Name

Email *

Message *

বিজ্ঞাপন